শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন

গোপালগঞ্জে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব

রিপোর্টারের নাম: / ১৯৫ টাইম ভিউ
আপডেটের সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:১৪ অপরাহ্ন

পংকজ দে,গোপালগঞ্জ:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে অনুষ্ঠিত হলো গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে উপজেলার কৃষ্ণাদিয়া শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদ্রাসার মাঠে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, মাদ্রাসার মাঠে ৬টি স্টলে চিতই, ভাপা, পুলি, তক্তি, নকশি, ডিমের পুডিং, পাটি সাপটা, ঝাল চন্দ্রকোনা, চন্দনকুলি, নারকেলের চিড়া, রসপান, হৃদয়হরন, গোকুলসহ প্রায় ৫০ ধরনের পিঠা নিয়ে বসে শিক্ষার্থীরা। পিঠার স্বাদ নিতে মাঠে ভিড় করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। উৎসবে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে পুরো মাঠ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শেষে মাদ্রাসার ৫০ শিক্ষার্থীর হাতে ৪০ হাজার টাকা উপবৃত্তি দেওয়ার পাশাপাশি মেলায় অংশ নেওয়া ৬টি স্টলের সবার হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সুনির্মল রায়, ব্যারিস্টার মনোজ কুমার ভৌমিক, নবকাম পল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক বিকাশ কুমার পাল।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। পুরো মাদ্রাসা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে, উপবৃত্তি চালু হয়েছে। ভবিষ্যতে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, স্মার্ট লাইব্রেরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে দূরে থেকে ইসলামি আদর্শে গড়ে উঠুক। তাই পিঠা উৎসব, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উপবৃত্তি প্রদান- এসবই শিক্ষার্থীদের মনন বিকাশের অংশ। আগামীতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু পাঠ্যবই নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বিকাশের জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। পিঠা উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরে আসবে।’

পিঠা বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। পিঠার স্বাদ শীতকে আরও মোহনীয় করে তোলে। স্নিগ্ধ শীতের সকালে, পড়ন্ত দুপুরে কিংবা আবছায়া গোধূলির ফুরফুর মেজাজে পিঠা খেতে কার না ভালো লাগে! আমাদের দেশে বিভিন্ন ঋতুতে বিশেষ বিশেষ পিঠার রেওয়াজ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
WEBSITE DEVELOPED BY MH ANTU