বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়ায় নতুন সংযোজন এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬ জুলাই আন্দোলনে গুলির মামলায় আসামি দিলীপ আগরওয়ালা, চাওয়া হয়েছিল ১০ দিনের রিমান্ড প্রচলিত রাজনীতির বাইরে তারেক রহমানের নতুন পথচলা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি গ্রেপ্তার: সিআইডির মামলায় অর্থ পাচারের অভিযোগ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ দিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম ১০০ ফিট সড়ক দখলে, উচ্ছেদের আশ্বাসেই দায়িত্ব শেষ? ক্রীড়াঙ্গনে পরিবর্তনের মশাল জ্বালিয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটি ঝিনাইদহে বিএনপি নেতা আনোয়ারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী,চাঁদাবাজি,দখলবাজিসহ নানা অভিযোগ চিকিৎসাসেবা থেকে শিক্ষা সহায়তা: জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭ বছর বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলেন ১০০ নারী

প্রণোদনা ঋণ বিতরণে গতি চান ব্যবসায়ীরা, শর্ত শিথিলের দাবি

রিপোর্টারের নাম: / ১৪ টাইম ভিউ
আপডেটের সময়: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি: বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরিয়ে আনতে ঘোষিত প্রণোদনা ঋণ পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। ঋণ প্রাপ্তির শর্ত সহজ করার পাশাপাশি খেলাপিমুক্ত হওয়ার জন্য ২ শতাংশ নগদ অর্থ জমা দেওয়ার বিধান প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে ঋণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ব্যাংকগুলোর দীর্ঘসূত্রতা কমানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ নিতে গিয়ে ব্যাংক পর্যায়ে নানা ধরনের জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে, আবার ঋণের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও দীর্ঘ সময় লাগছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ চেম্বার অব অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) এবং মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ ও মো. সরোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নীতিমালায় কোনো ঘাটতি, অস্পষ্টতা বা বাস্তবায়নগত সমস্যা রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, ঋণ বা আর্থিক সহায়তার আবেদন অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। কোনো কোনো ব্যাংকে পর্ষদ সভা হতে এক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে তাঁরা প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ পরিচালনা পর্ষদ সভা আয়োজন করে প্রণোদনা ঋণের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান।

এ ছাড়া ঋণের আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া বন্ধ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ করারও দাবি জানানো হয়। ব্যবসায়ীরা বলেন, ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ে জটিলতার কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তারা প্রণোদনা কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারছেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রণোদনা কর্মসূচির নীতিমালা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের যৌথ দায়িত্ব। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত সহায়তা পান, সে জন্য ব্যাংক ও ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম সাংবাদিকদের বলেন, ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে সুবিধা নিতে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে অনেকেই আবেদন করতে পারছেন না। কোনো কোনো ব্যাংক আবেদন গ্রহণে অনীহা দেখাচ্ছে, আবার কিছু ব্যাংক নানা অজুহাতে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা পরিপত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব জটিলতা দ্রুত দূর করে ইতোমধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলো নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে গত মে মাসে ৬২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার কথা। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে ঘোষণার চার মাস পার হলেও প্রণোদনা কর্মসূচির বাস্তব সুফল অর্থনীতিতে দৃশ্যমান হয়নি বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। অন্য খাতগুলোর ক্ষেত্রেও ঋণ বিতরণের গতি সন্তোষজনক নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
WEBSITE DEVELOPED BY MH ANTU